ঐতিহ্যমন্ডিত বালুচরী শিল্প বাঁচাতে প্রয়াস
কাজকেরিয়ার নিউজ ডেস্ক, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ লকডাউনের কারণে সমস্যার মুখে বালুচরী শিল্প। তাঁদের বাঁচাতে পাশে এসে দাঁড়ালো সরকার। বিষ্ণুপুরের ১৫০ জন বালুচরী শিল্পীদের নিয়ে আয়োজিত হল বালুচরী বস্ত্র সংগ্রহ শিবির। তিনদিন ব্যাপী চলবে এই শিবির।
সল্টলেকে তন্তুজ ভবনে তিনদিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত হচ্ছে বালুচরী বস্ত্র সংগ্রহ শিবির। আজ তার শুভ উদ্বোধন করলেন ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যেগ সমূহ এবং বস্ত্র দফতরের রাষ্ট্র মন্ত্রী তথা তন্তুজ সংস্থার সভাপতি স্বপন দেবনাথ। প্রায় ১৫০ জন বালুচরী তাঁত শিল্পী এই শিবিরে অংশগ্রহণ করেন। করোনার আবহ মাথায় রেখে বালুচরী শাড়ি বাছাই এর জন্য চার জন করে ভবনে ঢুকতে পারবেন আগ্রহী দর্শনার্থীরা। যাতায়াতের জন্য দফতরের তরফ থেকে গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ঐতিহ্যমন্ডিত তাঁত শিল্পের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ বাংলার বালুচরী শিল্প। সুপ্রাচীন সময় থেকে বাংলার তাঁত শিল্পীরা ঐতিহাসিক মহাকাব্য, রাজাবাদশার রোজনামচার নানান ছবি ফুটিয়ে তুলেছেন বালুচরী শাড়ির পাটে পাটে। কিন্তু সময়ের স্রোতে বহু প্রসিদ্ধ শিল্পর মতো বালুচরী শিল্প একসময় সংকটের সম্মুখীন হয়েছিল এর আগে ২০১০ সালে। তন্তুজর অন্তর্ভুক্ত তাঁতশিল্পী ছিল আনুমানিক ২০০ জন, যাদের উৎপাদিত মূল্য ছিল প্রায় ১০ লাখ টাকা। পরবর্তীকালে সরকার ও বস্ত্র দফতরের উদ্যোগে বহুমুখী পরিকল্পনায় রূপায়িত করে বালুচরী শিল্পকে উৎকর্ষ এবং উন্নতির নতুন পর্যায়ে নিয়ে যায়। আবার নবাবী আমলে প্রায় লুপ্ত হয়ে যাওয়া দশটি ডিজাইন পুনরুদ্ধার এবং উৎপাদনও করা হয়। ২০২০ তে তন্তুজ এর অন্তর্গত বালুচরী তাঁত শিল্প সহায়ক কুশলীর সংখ্যা প্রায় ২০০০। বাৎসরিক প্রায় দু’কোটি টাকার বালুচরী শাড়ি এবং বালুচরীর ডাইভারসিফায়েড পণ্য বিপণন হয়ে থাকে। সাম্প্রতিক করোনা অতিমারীর প্রকোপে তাঁত শিল্পীদের উৎপাদিত বস্ত্র যখন ঘরে ঘরে জমে আছে, সেই সময় সরকারের অনুপ্রেরণায় এবং তন্তুজ সভাপতি তথা বস্ত্র মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ এর উদ্যোগে তন্তুজ আয়োজন করেছে বালুচরী বস্ত্র সংগ্রহ শিবির। ৩, ৫ ও ৭ জুলাই তিন দিনব্যাপী এই সংগ্রহ শিবিরে বিষ্ণুপুর বালুচরী তাঁত শিল্পীদের উৎপাদিত বস্ত্র সামগ্রী ক্রয় করবে তন্তুজ। প্রায় ১৫০ জন বালুচরি তাঁত শিল্পী এই শিবিরে অংশগ্রহণ করেছেন।

